দ্যা জে.পি নিউজ, বরগুনা।
বরগুনায় কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন জেলা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বেলাল হোসেন (৪০)। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মো. বেলাল হোসেন বরিশাল জেলার কাউনিয়া থানার শায়েস্তাবাদ লজ গ্রামের রুস্তম হাওলাদারের ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে দায়িত্ব পালন করছিলেন এসআই বেলাল হোসেন। সকাল আনুমানিক ৭টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি পুলিশ লাইন্সের আরআইকে জানানো হলে দ্রুত পুলিশ হাসপাতালের মাধ্যমে তাঁকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সকাল ৭টা ৩২ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বেলাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মো. বেলাল হোসেন ১৯৮৬ সালের ৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৬ সালের ২৯ মার্চ বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর চাকরিজীবনের মেয়াদ ছিল ২০ বছর ৪ মাস ২ দিন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
মরহুমের প্রথম জানাজা মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর বরগুনা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মুকিত হাসান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইশতিয়াক আহমেদ, পিপিএমসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা অংশ নেন।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পুলিশ সুপার মরহুম বেলাল হোসেনের কর্মজীবনের কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে কর্মজীবনে কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং মরহুমের জন্য দোয়া কামনা করেন।
এদিকে বেলাল হোসেনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর স্ত্রী লাকি আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী সুস্থ ছিলেন। আমরা কল্পনাও করতে পারিনি আল্লাহ তাঁকে এত সকালে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যাবেন। সবাই আমার স্বামীর জন্য দোয়া করবেন।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মরহুমের মরদেহ তাঁর নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
তাঁর মৃত্যুতে শোকবার্তায় পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা মরহুমের কর্মজীবনের কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।





