দ্যা জে.পি নিউজ,বরগুনা।
বরগুনায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১৭ জন ভর্তি হয়েছেন। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়েছেন ৭৬৯ জন। নতুন করে রোগী বাড়তে থাকায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এক দিনে বরগুনার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গত বছর দেশে শনাক্ত হওয়া মোট ডেঙ্গু রোগীর প্রায় ১০ শতাংশ বরগুনায় শনাক্ত হয়েছিল। ব্যাপক সংক্রমণের কারণে স্বাস্থ্য বিভাগ জেলাটিকে ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। ওই সময় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু সুপারিশ করলেও এর অধিকাংশ বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত ডোবা-নালা, জলাবদ্ধ স্থান ও ময়লার ভাগাড়ে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রম না থাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হলেও সেগুলো ধ্বংসে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। বরগুনা পৌরসভা এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
গত বছর ডেঙ্গুর ব্যাপক সংক্রমণের পর আইইডিসিআরের সুপারিশ অনুযায়ী আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করা, মশক নিধন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়ানোর কথা ছিল। তবে এসব কার্যক্রম নিয়মিত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় চলতি মৌসুমে আবারও সংক্রমণ বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, সারা দেশের মতো বরগুনাতেও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি যেন মহামারির দিকে না যায়, সে জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। জেলার সব উপজেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া গেলে বরগুনায় ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।





