দ্যা জেলখানা প্রেস নিউজ

২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্যা জেলখানা প্রেস নিউজ

/

বরগুনা আমতলীতে খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা

বরগুনা আমতলীতে খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা

||

দ্যা জে পি নিউজ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

দ্যা জে.পি নিউজ,বরগুনা।

বরগুনায় খাল পুনঃখননের কাজ শেষে অব্যয়িত সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আমতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী। তাঁর এই সততার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশংসায় ভাসছেন এই কর্মকর্তা।

সরকারি বরাদ্দের টাকা পুরোটা খরচ করতেই হবে—এমন প্রচলিত মানসিকতার বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দুটি খাল পুনঃখনন ও খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের কাজ শেষ করে অব্যয়িত ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা গত ৮ আগস্ট সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় আমতলী উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেয় সরকার। গত ৮ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের তিন কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের দুই কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয়।

দুটি প্রকল্পে কাজের সুযোগ পান ৩৯৭ জন অতিদরিদ্র মানুষ। ইউএনও মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরীর তদারকিতে নির্ধারিত কার্যাদেশ অনুযায়ী খননকাজ শেষ করা হয়। পরে খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়। সব কাজ সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা গত ৮ আগস্ট সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, খাল দুটি পুনঃখননের ফলে কৃষি ও পরিবেশ—দুই ক্ষেত্রেই সুফল মিলবে। পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের পাড়ের বাসিন্দা ও প্রকল্পের উপকারভোগী কাওসার মাদবর ও রুবেল হাওলাদার বলেন, খালটি পুনঃখননের ফলে অন্তত ২০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। শুকনো মৌসুমে পানির সংকটে রবি শস্য চাষে যে সমস্যা হতো, তা অনেকটাই কমবে। খালের পানি কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা প্রতিবছর বাড়তি ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।

তাঁরা আরও বলেন, খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর ফলে এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য দুটোই বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফখরুদ্দিন ও তাহসিন বলেন, কাজ শেষে সরকারি কোষাগারে এত বড় অঙ্কের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা আমতলীতে বিরল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টাকা ফেরত দিয়ে সততা ও দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা এভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং উন্নয়নকাজের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রুনু বেগম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দিকনির্দেশনা, কর্মপরিকল্পনা ও তদারকিতে প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাজ শেষে অব্যয়িত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, খাল পুনঃখনন সরকারের একটি মহতী উদ্যোগ। উদ্যোগটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাই নিরলসভাবে কাজ করেছেন। খাল খননের পাশাপাশি দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। দুটি খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের কাজ শেষে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকেসহ দেশের ৮৪ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রী ডেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তিনি তাঁদের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা উন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

    Opps, No posts were found.