দ্যা জে.পি নিউজ, বরগুনা।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বরগুনায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষে এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার শেষ পর্ব। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকেরা। এবার জেলায় ১৪৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় ৯টি বেশি। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করেছে প্রশাসন।

দুর্গোৎসবের আগমনে বরগুনার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। নতুন পোশাক কেনা, মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন, প্রার্থনা এবং স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির অপেক্ষায় রয়েছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ। হিন্দু শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে হাতিতে চড়ে।
বরগুনায় দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মিলনমেলায়ও পরিণত হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত এ জেলায় প্রতিবছরই অন্য ধর্মের মানুষও পূজার আনন্দে অংশ নেন। এবারও পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে উৎসব উদযাপনের প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সমাজসেবক এনামুল হক শাহিন ও বাবুল আক্তার বলেন, বরগুনায় সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে নিজেদের ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। দুর্গাপূজাও সবার অংশগ্রহণে আনন্দমুখর হয়ে ওঠে। এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে বলে তারা আশা করছেন।
বরগুনা শহরের আখড়াবাড়ি পূজামণ্ডপেও চলছে প্রস্তুতি। মণ্ডপের সভাপতি দীলিপ কর্মকার বলেন, আজ মহালয়া। তারা সব সময় আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে চান। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা পান তাঁরা। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা তাদের আনন্দিত করে।
দীলিপ কর্মকার বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকে শুধু পূজার আয়োজনে সহযোগিতা করেন না, মণ্ডপে এসে খোঁজখবর নেন এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। অনেক সময় মণ্ডপে তাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে বেশি। এটি বরগুনার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুন্দর দৃষ্টান্ত।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার-বরগুনায় দীর্ঘদিন ধরে এ চর্চা চলে আসছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার এ বন্ধন অটুট রেখে সবাই মিলে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে চান তাঁরা।
এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার ১৪৬টি মণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ, নৌবাহিনী, এসআরবি, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সাদাপোশাকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন বলেন, জেলার প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
আগামী ১৬ অক্টোবর বোধন পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উৎসবকে ঘিরে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আয়োজকেরা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে-এমন প্রত্যাশা সবার।




