দ্যা জে.পি নিউজ, বরগুনা।
আনন্দভ্রমণে গিয়ে আর ঘরে ফেরা হলো না সাত স্বজনের। কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন বরগুনার আমতলী উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ সাতজন। নিহত তিনজনের মধ্যে রয়েছেন এক বাবা-মায়ের ছেলে, মেয়ে ও নাতি। অন্য চারজন তাদের ঘনিষ্ঠ স্বজন। একসঙ্গে সাতজনকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে দুটি পরিবার।
নিহত তিনজন হলেন আমতলীর অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও নাতি ফাইজান আহম্মেদ। নিহত অপর চারজন হলেন ইসরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, লায়লা জাহান নাভিলা ও নাফিসতা মীম। তারা কবির তালুকদারের ভায়রা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্য। তাদের বাড়ি ঢাকার ফতুল্লায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুই পরিবারের সদস্যরা আনন্দভ্রমণে কক্সবাজার যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন কবির তালুকদারের ছেলে, মেয়ে, নাতি, জামাতা নুরে আলম এবং ভায়রা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্যরা। তারা ওঠেন টুপটুপ রিসোর্টে। তবে নুরে আলম শুক্রবার ঢাকায় ফিরে যান। এর পরই রিসোর্টে ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।

কবির তালুকদার জানান, আগুন লাগার সময় তিনজন জানালা ভেঙে বাইরে বের হতে পারলেও অন্যরা আটকা পড়েন। এ ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এতজন স্বজনকে হারিয়ে শোকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কবির তালুকদার বলেন, ‘আমার কিছুই রইল না। ছেলে, মেয়ে ও নাতি মারা গেছে। তারপর ভায়রার পরিবারের চারজন মারা গেছেন।’
স্বজনদের ঘিরে ছিল তার নানা স্বপ্ন। ছেলে-মেয়ের সাফল্য, নাতির হাসি আর পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুখে থাকার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু একটি অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। প্রিয়জনদের এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা।

নিহত কৌশিক জেরিফ সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। সামনে ছিল চাকরির প্রস্তুতি ও নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই থেমে গেল তার পথচলা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মরদেহ আনতে পরিবারের সদস্যরা শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের উদ্দেশে যান।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।’
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শুনেছি, অগ্নিকাণ্ডে আমতলীর একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। পরিবার সহায়তা চাইলে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।’





