দ্যা জেলখানা প্রেস নিউজ

২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্যা জেলখানা প্রেস নিউজ

/

আমতলীতে বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় ছেলে খুন

আমতলীতে বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় ছেলে খুন

||

দ্যা জে পি নিউজ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

দ্যা জে.পি নিউজ, বরগুনা।

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি রিপন কাজী (৩৫) হত্যাকাণ্ডে তাঁর বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ এবং পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (০১ জুলাই) রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় রিপন কাজীকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর স্থানীয়রা সন্দেহভাজন মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহতের বাড়ি আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামে। স্বজনদের অভিযোগ, বাবা মিজানুর কাজীর একাধিক বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পাশাপাশি, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিহত রিপন কাজী ও তাঁর চাচাতো ভাই, গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিফাত কাজীর মধ্যেও রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়। এসব বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে রিপন কাজীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজী।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিপন কাজী ও তাঁর চাচাতো ভাই রাজিব কাজী মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গগণখা এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা ১৫–২০ জন তাঁদের গতিরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে রাসেল কাজী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিপন কাজীর ওপর হামলা চালান। পরে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী, মনির কাজীসহ অন্যরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। রাজিব কাজীও হামলার শিকার হলেও প্রাণ বাঁচাতে পাশের খালে ঝাঁপ দেন।

রাজিব কাজী জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত রিপন কাজীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিহতের বাবা মিজানুর কাজীর ব্যবহৃত বলে পুলিশের দাবি। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতের মা আমেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থল পটুয়াখালী সদর থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় আইনগত কার্যক্রম সেখানেই পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের হাতে আটক দুইজনকে পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

    Opps, No posts were found.