দ্যা জে.পি নিউজ, বরগুনা।
এ যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মতো মনোরম দৃশ্য। যে কেউ মনের গহীনে হারিয়ে যাবেন আপন মনে। বরগুনার আমতলী পৌর ভবনের সামনের সরকারি লেকটি। অপরূপ সৌন্দর্যের বাহারে সবুজ সমারোহ প্রকৃতি যেন ঝলমল করছে। স্বচ্ছ পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশের উপস্থিতি এর সৌন্দর্যকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে। দুই পাশে সারি সারি ছায়াবৃক্ষ, এরই মাঝে একঝাঁক পাখি তাদের সুরের মুর্চ্ছনা দিয়ে সুনীল আকাশে উড়ে যাচ্ছে। গাঢ় সবুজ শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মতো মনোরম এ দৃশ্য যে কারো মনকে উতলা করে তুলবে এবং নিয়ে যাবে ভিন্ন এক জগতে। প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা মায়াবী এক নৈসর্গিক দৃশ্য। পড়ন্ত বিকালে সবুজ প্রকৃতির মাঝে এই লেকে অবস্থান করে স্বস্তির নিশ্বাস নেয়া যেতে পারে নির্বিঘ্নে।
আমতলী পৌর শহরে বিনোদনের জন্য কোনো স্থান খুঁজে পাওয়া যায় না। এ লেকটিকে শহরের একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র করার জন্য আমতলী পৌরবাসী সরকারের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার ও পর্যটন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছেন। এই লেককে ঘিরে মানুষের পদচারণা থাকে সারাক্ষণই। আমতলীর রিপোটার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি মো. হায়াতুজ্জামান মিরাজ বলেন, এ লেকটি আধুনিক করণসহ পানি ব্যবহারের উপযোগী, পৌরবাসীর হাটার জন্য ওয়াক ওয়ে নির্মাণ করে দিলে সকাল বিকাল সন্ধ্যা বেলা পৌরবাসীর হাটার একটি সুন্দরতম দর্শনীয় স্থান হয়।
আমতলী শহরবাসীদের বিনোদনের অন্যতম স্থান হতে পারে এই লেকটি। এর চার পাশে নানা বাহারি দোকানের পসরা সাজিয়ে বসলে বিনোদনপ্রেমীদের বসবে মিলনমেলা। যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু প্রশান্তি খুঁজতে ঈদের ছুটিতে ঘুরে বেড়ানোর অন্যতম জায়গা হিসেবে শহর ও আশেপাশের মানুষের কাছে এ লেক হতে পারে এক আদর্শ জায়গা। পাশাপাশি সকারের প্রচুর রাজস্ব আয় হবে এখান থেকে।
লেকের চারপাশের বিশ্রাম নেয়ার জন্য বেঞ্চ থাকলে অবসর সময় কাটানোর জন্য ভিড় থাকবে। সরকারিভাবে উন্নয়নের মাধ্যমে লেকটি সৌন্দর্য বর্ধন করলে আমতলী পৌরবাসীর কাছে একমাত্র বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সুবিশাল এই লেক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সময়ের ব্যবধানে লেকটিতে ফুটে উঠছে প্রাকৃতিক চিত্র। আমতলী পৌর শহরের মাঝামাঝি ৩০ একর আয়তনের এ লেক ছিল পায়রা নদীর সাথে সংশ্লিষ্ট। লেকের উত্তর পাশে দিয়ে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় ২০১৬ সালে আমতলী পৌরভবন নির্মিত হয়। দক্ষিণ পাশে ১৯৮৫ সালে বাঁধ দিয়ে আমতলী কলাপাড়া কুয়াকাটা বরগুনা জেলার সাথে মহাসড়ক নির্মাণ হয়। লেকের উত্তর পাশে অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে সুন্দরতম পৌরভবন।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, এ লেকটিকে স্থায়ী ভাবে পর্যটন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সৌন্দর্যবর্ধন করলে পৌরবাসীর অন্যতম বিনোদন ও পর্যটন স্পট হতে পারে, পাশাপাশি লেকটি হবে কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, সোনাকাটা ইকোটুরিজম দর্শনার্থীদের যাত্রাপথের মিলন মেলা।
আমতলী পৌরশহর ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা কুয়াকাটা, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা বন্দর, সোনাকাটা ইকোটুরিজ্যম, তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, তালতলী জাহাজ ভাঙা শিল্প এলাকার মধ্যবর্তী স্থান হচ্ছে আমতলী পৌর শহর।
উল্লেখিত পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরতে আসে অসংখ্য মানুষ। এসব বিনোদনপ্রিয় মানুষদেরও আগমন ঘটবে। বরগুনার আমতলীর পৌর শহরের লেকটিতে। আর এ লেকের কারণে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হতে পারে আমতলীর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠি। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতে পারে সহস্রাধিক মানুষের।
আমতলী পৌরবাসী শহরে বিনোদনের জন্য কোনো স্থান কেন্দ্র না থাকায় কখনো নদীর পার বা খোলা প্রান্তরে ঘুরে দূর করার চেষ্টা করে মনের ক্লান্তি। ক্লান্তি দূর করে সতেজ মন নিয়ে ঘরে ফেরার স্থানও হবে এটি।
স্থানীয়দের দাবি, লেকটি শুধু আমতলী পৌরবাসীর চিত্ত বিনোদনের জন্য নয়; বরগুনা জেলাকে পর্যটন শহর হিসেবে রূপান্তর ও সারাবিশ্বে আমতলীকে পরিচিতি করে দেওয়ার নতুন মাত্রা হিসেবে যুক্ত করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প হিসেবে পাঠানো অনুরোধ সবার।







