আজ রবিবার সকালে কারখানার সামনে ফের ভিড় করেন শ্রমিকরা। সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলেও সেখানেই অবস্থান করেন তারা। রাতেও ফটকের সামনে অবস্থান করবেন বলে জানান শ্রমিকরা।
শনিবার বিকেলে ফটকের সামনে এ প্রতিবেদকের কথা হয় কারখানাটির শ্রমিক হেনরি বিশ্বাসের সঙ্গে।
হেনরি বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের ছাঁটাই কইরা দিল। একসঙ্গে ৫৮০ জন মানুষ বেকার হইয়া গেল। এই বয়সে নতুন চাকরি কই পামু? বাচ্চাগো খাওয়ামু কেমনে?’
এদিকে কারখানা বন্ধ ঘোষণার পর বরিশালের বগুড়া রোডে এখন নিস্তব্ধতা। হারিয়ে গেছে প্রতিদিনকার চেনা দৃশ্যপট। যে কারখানার ভেতর মেশিনের শব্দে কাঁপত চারপাশ, সেখানে এখন নিঃশব্দে প্রতিধ্বণিত হয় শ্রমিকদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা।হেনরি বিশ্বাসের মতো শত শত শ্রমিক জানেন না, আগামীকাল সকালের বাজারে দুধ কিনতে পারবেন কিনা। তবু আজ রবিবারও কারখানার ফটকে দাঁড়িয়ে আশায় তাকিয়ে থাকেন—হয়তো আবার খুলবে ফটক, আবার বাজবে সেই মেশিনের শব্দ, ফিরে পাবেন তাঁদের হারানো কাজ।
গত ২৭ অক্টোবর থেকে কারখানা বন্ধ রেখে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকরা ভেবেছিলেন, হয়তো মেশিন মেরামত বা উৎপাদন বিরতির জন্য ছুটি। কিন্তু ছুটি শেষে ২৯ অক্টোবর থেকে ডাকযোগে একে একে পৌঁছাতে শুরু করে ছাঁটাইপত্র।
৪০ বছরের পুরনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি বরিশালের অন্যতম বড় নিয়োগদাতা। প্রায় ১১০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান ছিল এখানে। কিন্তু হঠাৎ এমন ছাঁটাইয়ের পেছনে কারণ কী? শ্রমিকদের অভিযোগ, সম্প্রতি তারা শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করছিলেন। এ কারণেই ভয় দেখানো শুরু হয়। এখন পুরো ৫৮০ জনকে একসঙ্গে বাদ দেওয়া হলো। এটি ইউনিয়ন ভাঙার চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়।
রবিবার বিকেলে কারখানার ফটকের সামনে বিক্ষোভ হয়। শ্রমিকদের দাবি, ছাঁটাই নোটিশ প্রত্যাহার করতে হবে, সবাইকে কাজে ফিরিয়ে নিতে হবে। শুধু তাই নয়, দেশের সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তারা।
বিক্ষোভের সময় দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী শ্রমিকের চোখে ছিল কান্না। তিনি বলেন, ‘আমরা তো দোষ করি নাই। শুধু ইউনিয়নের কথা বলছিলাম। এখন পেটে ভাত, মনে ভয়।’ অপসোনিন গ্রুপের এক কর্মকর্তা পরিচয় না দিয়ে বলেন, আমরা এই বিষয়ে কিছু জানি না। ঢাকা হেড অফিস ভালো বলতে পারবে।’ তবে হেড অফিসে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পরে কারখানাটির মানবসম্পদ কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম দীপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের কারণে কারখানা লে-আউট ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকদের পাওনা টাকা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা হবে।’






