দ্যা জেলখানা প্রেস নিউজ

৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্যা জেলখানা প্রেস নিউজ

/

দেশের ভিবিন্ন স্থানের ন্যায় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো বরগুনার জনপদ

দেশের ভিবিন্ন স্থানের ন্যায় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো বরগুনার জনপদ

||

দ্যা জে পি নিউজ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

দেশের ভিবিন্ন স্থানের ন্যায় বরগুনা জেলায় হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে সকালে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে আতঙ্কে ছুটোছুটি করেন সাধারণ মানুষ। বাড়িঘর, দোকানপাট, অফিস-আদালতসহ বিভিন্ন ভবনের দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। কেউ পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই অনেকেই ঘর থেকে লাফিয়ে বাইরে বের হয়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবীণ এক সাংবাদিক বলেন, “কম্পনটা দীর্ঘ হয়নি, কিন্তু ঝাঁকুনিটা ছিল হঠাৎ এবং স্পষ্ট। কয়েক সেকেন্ডেই সবাই ভয় পেয়ে যায়। খোলা জায়গায় ছুটতে ছুটতে মানুষ চারদিকে তাকাচ্ছিল—কেউ যেন কিছু বুঝতে পারছিল না।”

এখন পর্যন্ত কোথাও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতা ও কেন্দ্রস্থল সম্পর্কে এখনও আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ইউনিটের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

বেতাগী: কম্পনেই আতঙ্ক, ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন মানুষ

 

বেতাগীতে কম্পন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। পুরো উপজেলা জুড়ে কয়েক সেকেন্ডের কম্পনে ভয়-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাজার, ব্যাংক, সরকারি দপ্তর—মুহূর্তের জন্য কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

 

বেতাগী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আব্দুল লতিফ বলেন,

“ভূমিকম্প অনুভূত হতেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েছি। কোনো বড় ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনে উদ্ধার দল প্রস্তুত রয়েছে।”

 

তিনি আরও জানান, অল্পমাত্রার হলেও উপকূলীয় এলাকায় হঠাৎ ভূমিকম্প মানুষকে বেশি আতঙ্কিত করে।

বরগুনা সদর: ভবনগুলো কেঁপে ওঠে,

জেলার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বরগুনা সদরে কম্পন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদালত ভবন, হাসপাতাল এলাকা, টাউন হল সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষ বাইরে বেরিয়ে আসে।

সদর উপজেলা প্রশাসন নিকটস্থ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি করে ক্ষতির বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে কোথাও ধস বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।

আমতলী: বাজার-দপ্তরে হঠাৎ কর্মবিরতি

 

আমতলীতে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরপরই পৌর বাজার, সড়কপথ, বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কাজ কয়েক মিনিট বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে ফোনে আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল বারেক বলেন, “একেবারে হঠাৎ করে দোকানের গ্লাসগুলো ঠকঠক শব্দ করতে থাকে। ভেবে পেলাম না কী হচ্ছে।”

 

তালতলী: উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় উদ্বেগ

উপকূলের তালতলী উপজেলায় ভূমিকম্প নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশি উদ্বেগ দেখা গেছে। বিশেষ করে সাগরপাড়ের বাসিন্দারা ভূমিকম্পের সঙ্গে সুনামির শঙ্কাও অনুভব করেন।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রামের মানুষকে আস্থায় আনতে মাইকিং করেন।

 

পাথরঘাটা: নদী তীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক, ঘর থেকে বের হয়ে আসেন সবাই

বিষখালী ও বলেশ্বর নদীঘেরা পাথরঘাটায় ভূমিকম্পের সময় অনেকে বাড়ির উঠানে বা খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠায় অনেকে নৌকার ঘাট থেকেও ওপরে উঠে আসেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদীতীরবর্তী কাঁচা ঘরে কোনো ফাটল বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেনি।

 

বরগুনার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের ধারণা—এটি স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প ছিলো

জনগণকে সচেতন থাকতে আহ্বান

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভূমিকম্পে—

ভবন কাঁপতে শুরু করলে দৌড়াদৌড়ি না করে দ্রুত খোলা জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে

লিফট ব্যবহার করা যাবে না

ভারী বস্তুপতন থেকে দূরে থাকতে হবে

বেড়িবাঁধ বা নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্ক থাকতে হবে

 

সামগ্রিকভাবে বরগুনা জেলায় কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের ঘটনা বা ধসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সামান্য এই ভূকম্পন স্থানীয় মানুষকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—উপকূলীয় অঞ্চলে যে কোনো মুহূর্তে দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে

দ্যা জেপি নিউজ

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর