দ্যা জেলখানা প্রেস নিউজ

২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্যা জেলখানা প্রেস নিউজ

/

শিক্ষককে অপহরণ করে নির্যাতন, নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

শিক্ষককে অপহরণ করে নির্যাতন, নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

||

দ্যা জে পি নিউজ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

​বরগুনার আমতলী উপজেলার চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সদস্য মো. মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, নির্যাতনের সময় শিক্ষক রফিকুল ইসলাম পানি চাইলে তাকে প্রস্রাব খাইয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে এটিএম কার্ডের মাধ্যমে ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

২১ অক্টোবর রাতে এই ঘটনা ঘটে। সাত দিন পর, সোমবার রাতে নির্যাতিত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম আমতলী থানায় হত্যা চেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলা করেন।

মঙ্গলবার পুলিশ শিক্ষকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে।

​মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার ধুপতী গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ২০১৫ সালে চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই উপজেলা যুবলীগ সদস্য মিজানুর রহমান তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিজান বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি শুরু করেন।

​২১ অক্টোবর রাতে মিজানুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ এবং তাদের সহযোগীরা আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে চরকগাছিয়া বিদ্যালয় হোস্টেল থেকে শিক্ষক রফিকুলকে জিম্মি করে তুলে নিয়ে যায়।

এরপর তাকে ঘোপখালী এলাকার নয়া মিয়ার একটি কলা বাগানে নিয়ে রড দিয়ে রাতভর নির্যাতন চালানো হয়।

​নির্যাতনের একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা রফিকুল ইসলামের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

শিক্ষক রফিকুল ইসলাম চরম তৃষ্ণার্ত হয়ে পানি চাইলে, সন্ত্রাসীরা তাকে প্রস্রাব খাইয়ে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

​নির্যাতন শেষে রফিকুল ইসলাম তার সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ৮১ হাজার টাকা থাকার কথা জানালে, সন্ত্রাসীরা তার এটিএম কার্ড ও পিন নম্বর নিয়ে টাকা তুলে নেয়।

​রাতভর নির্মম নির্যাতনের পর সন্ত্রাসীরা ভোরবেলা অচেতন অবস্থায় শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে বিদ্যালয়ের হোস্টেলের সামনে ফেলে রেখে যায় এবং ভয় দেখায় যে, বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকে হত্যা করে পায়রা নদীতে ফেলে দেওয়া হবে। পালানোর সময় তারা শিক্ষকের ল্যাপটপ ও মোটরসাইকেলও নিয়ে যায়।

​পরদিন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

​ঘটনাস্থলের সাত দিন পর রফিকুল ইসলাম যুবলীগ সদস্য মিজানুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আবুল কালাম আজাদ ওরফে নয়া মিয়া, তোতা তালুকদার ও সেলিম তালুকদার।

চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির এই জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘‘আমাদের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এর ন্যায্য বিচার দাবি করছি।’’

​আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান নিশ্চিত করেন যে, শিক্ষকের মুখমণ্ডল, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম ছিল এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

​আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ‘‘ঘটনার বিষয়ে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর প্রচেষ্টা চলছে।’’

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

    Opps, No posts were found.