বরগুনার বেতাগী পৌর শহর এলাকায়ই সড়ক দখল করে রাখা অটোরিকশা, রিকশা ও মালবাহী ট্রাকের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা। সাপ্তাহিক হাটের দিন বেতাগী পৌর শহরের টাউন ব্রিজ এলাকার ৩০০ মিটার সড়ক অটোরিকশা–রিকশা স্ট্যান্ডে পরিণত হয়; অন্যদিকে তালতলীর মালিপাড়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ ট্রাক পার্কিং। দুই জায়গাতেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অভাবে জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
বেতাগী পৌর শহরে রিকশা–অটোরিকশার দখলে সড়ক
বেতাগী পৌর শহরের টাউন ব্রিজের পূর্ব পাশে, সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রিকশা ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে দীর্ঘদিন ধরে। সাপ্তাহিক হাটের দিন—বুধবার ও শনিবার—পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে ভাসমান ফেরিওয়ালাদের দোকান, অন্য পাশে সারি সারি অটোরিকশা ও রিকশা দাঁড়িয়ে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফলে পথচারীদের মূল সড়ক ছেড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হচ্ছে। ঘনঘন সৃষ্ট যানজটে সময় নষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
পথচারীদের ক্ষোভ
বেতাগী সরকারি কলেজ গেট এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন বলেন,
“সড়কজুড়ে অটোরিকশা দাঁড়ানো থাকে—আমাদের হেঁটে চলার জায়গা নেই। হাটের দিনের ভোগান্তি অসহনীয়।”
রিকশাচালক বিমল পরামানিক বলেন,
“আমাদের জন্য স্ট্যান্ড নেই। বাধ্য হয়ে সড়কে দাঁড়াই।”
হাটকেন্দ্রিক বাজারেও ভিড়
হাটের দিন টাউন ব্রিজ এলাকায় কাঁচাবাজার বসে। ফলে ভাসমান ফেরিওয়ালা, গ্রামীণ কৃষক, অটোরিকশা—সব মিলিয়ে পুরো এলাকা জটিল হয়ে পড়ে।
বেতাগী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি স্বপন কুমার ঢালী বলেন,
“যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র। স্থায়ী সমাধানের জন্য রিকশা–অটোরিকশার আলাদা স্ট্যান্ড প্রয়োজন।”
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন বলেন,
“চালকদের দোষ নয়—স্ট্যান্ড নেই বলে তারা সড়কে দাঁড়ায়। আলাদা স্ট্যান্ডের জায়গা খুঁজে দেখা হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক হরেকৃষ্ণ অধিকারী জানান,
“মেয়র ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। রিকশা–অটোরিকশা, নসিমন ও পিকআপের জন্য আলাদা স্ট্যান্ড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জমি খোঁজা হচ্ছে।
দ্যা জেপি নিউজ






