দ্যা জেলখানা প্রেস নিউজ

১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্যা জেলখানা প্রেস নিউজ

/

খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ।

খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ।

||

দ্যা জে পি নিউজ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

বরগুনার আমতলী উপজেলায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির অধীনে ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ আবেদনকারীরা পুনরায় নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি দৈনিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃক ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেখানে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ২৯টি বিক্রয়কেন্দ্রের জন্য ২৯ জন ডিলার নিয়োগের কথা উল্লেখ থাকলেও আবেদনকারীদের কাছে ২৪টি কেন্দ্রের তথ্য গোপন করে পাঁচটি কেন্দ্রের তথ্য গোপন রাখা হয়। পরবর্তীতে ঘুষের বিনিময়ে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এ ঘটনায় আবেদনকারী জাকির মাতুব্বর বলেন, “আমিও ডিলার পদের একজন প্রার্থী ছিলাম। আমার কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। আমি টাকা দিতে পারিনি, তাই আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমার জায়গায় আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি মামলা করেছি, যা এখনো চলমান।”

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “দেশের অন্যান্য উপজেলায় লটারির মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলেও আমতলীতে লটারি ছাড়াই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা প্রত্যেক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন।”

 

আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল ফকির বলেন, “আমতলীতে খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, তা দেশের অন্য কোথাও ঘটেনি। প্রতিটি নিয়োগে মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরাও এই বাণিজ্যে যুক্ত ছিলেন।”

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোসাম্মদ শারমিন জাহান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইউএনও স্যার এই নিয়োগ কমিটির সভাপতি ছিলেন। সবকিছু নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে।”

 

বরগুনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসিফুড) কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। নীতিমালা বহির্ভূত কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি রোকনুজ্জামান খান বলেন, “খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ আমার জানা নেই। বিধি মোতাবেক যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, আমতলীতে ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়টি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তারা উচ্চতর কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হবেন।

— দ্যা জেপি নিউজ অনলাইন ডেস্ক।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

    Opps, No posts were found.